ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতেছেন বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে কোন কোন আসনে লড়তে হয়েছে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। কোথাওবা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থীর বিপরীতে। নির্বাচনে জয় পাওয়ায় এখন তারাও সংসদের যাবেন বিএনপির ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীদের সাথে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী মৃত্যুবরণ করায় সেখানে ভোট স্থগিত করা হয়। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি।
২৯৭টি আসনের ফলাফলে বিএনপি ও জোটভুক্ত দলগুলো পেয়েছে ২১২টি আসন। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্ররা পেয়েছে ৭৭টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয় পেয়েছেন।
ফলে সঙ্গত কারণেই এখন প্রশ্ন উঠেছে- বিএনপির এসব বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখন কি করবেন? তারা কি স্বতন্ত্র হিসেবেই সংসদে থাকবেন? নাকি ফের দল তাদের ডেকে নেবে?
এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতে চাননি বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। সবে নির্বাচন শেষ হলো। এখন তাদের ব্যাপারে ভাবা হবে।
বিএনপির এসব বিজয়ী স্বতন্ত্ররা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-৩ আসনের লুৎফর রহমান খান আজাদ, চাঁদপুর-৪ আসনের আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ আসনের আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনের সালমান ওমর রুবেল এবং দিনাজপুর-৫ আসনের রেজওয়ানুল হক।
দলের নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় নানান উদ্যোগের পরও ধানের শীষ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সারা দেশের অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির ‘অভিমানী’ নেতারা স্বতন্ত্র তথা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে থেকে যান।
বিশেষ করে শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৬ আসনের ১২টিতেই নির্বাচনের মাঠে ছিলেন তারা। এতে করে তৃণমূলে বিএনপির ভোট কার্যত বিভক্ত হয়ে যায়। যে কারণে অধিকাংশ আসনে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা পরাজিত হয়।







