ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঢাকা-১৪ আসনের সকল নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই প্রশাসনের একটি অংশ নিরপেক্ষ আচরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, ভোটগ্রহণের শুরুর সময় থেকে কেন্দ্রগুলোতে তাদের পোলিং এজেন্টদের নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক সহায়তায় কিছু কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্টদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া একপাক্ষিক হয়ে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পক্ষ থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং ভোটারদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাদের কাছে ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও সংবাদ সম্মেলনে সেই ভিডিও প্রদর্শন করা হয়নি, তবে তিনি বলেন, প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।
সানজিদা ইসলাম তুলি অভিযোগ করেন, ভোট গণনার আগেই তাদের পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক কেন্দ্রেই সঠিকভাবে গণনা সম্পন্ন হওয়ার আগেই ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল প্রকাশে উদ্দেশ্যমূলক বিলম্ব করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। কিছু কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ না করেই ব্যালট পেপার সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন দাবিও করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এটি শুধু একজন প্রার্থীর প্রতি অবিচার নয়, বরং পুরো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অবিচার। নির্বাচনের মৌলিক নীতি—স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা—চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী। তাই অবিলম্বে ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল স্থগিত করে পুনঃতদন্তের দাবি জানান তিনি।







