ঢাকাশুক্রবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
    • অন্যান্য

    অজোপাড়ার ছোট বিদ্যালয়ে সাফল্যের ঢেউ

    আরিফ আনজুম
    ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ ১:০৩ অপরাহ্ণ

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্য দেখিয়েছে বগুড়ার শিবগঞ্জের আমতলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। বগুড়া জেলা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে গ্রামীণ ছোট্ট বাজার। সেই বাজার থেকে খানিকটা দূরে পাকা সড়কের পাশে ২৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে গড়ে ওঠে একটি বিদ্যালয়। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা সেই বিদ্যালয়ের সাফল্যের কথা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বগুড়া জেলা জুড়ে।

    এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে নিজ উপজেলা শিবগঞ্জ তো বটেই, জেলা শহরের অনেক নামীদামি স্কুলকেও টপকে গেছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এবার এই বিদ্যালয় থেকে ২২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে ৬জন ট্যালেন্টপুলে এবং ১২ জন সাধারণ গ্রেড সহ ১৮ জন বৃত্তি পেয়েছে।

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে চমক দেখানো এই বিদ্যালয়ের নাম আমতলী মডেল স্কুল। অবস্থান শিবগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার অদূরে আমতলী বাজার-দাড়িদহ সড়কের পাশে। আমতলী মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এবং বেসরকারিভাবে পরিচালিত এই বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো ১৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফলে ১৭ জনই জিপিএ-৫ পায়। এর পর থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সাফল্যের ধারা অব্যাহত আছে এই বিদ্যালয়ের।

    আমতলী মডেল স্কুল সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ জনপদে মানসম্মত শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০০৩ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন মীর লিয়াকত আলী। গ্রামীণ জনপদে শিক্ষায় মডেল প্রতিষ্ঠান গড়তে ২৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিদ্যালয়টির নাম দেওয়া হয় আমতলী মডেল স্কুল। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করায় এখন বিদ্যালয়টি রীতিমতো মডেল স্কুল হিসেবে সুনাম ছড়াচ্ছে। বিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে গ্রামীণ জনপদে।

    বিদ্যালয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের পরিচালক মীর মহরম আলী বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জনপদে মানসম্মত শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং গ্রামের শিক্ষার্থীদের শহরের মানের জ্ঞানচর্চা নিশ্চিত করতে ২৩ বছর আগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে ছিল শিশুদের পাঠশালা। এখন মাধ্যমিক স্তর চালু আছে। বিদ্যালয়ের আয়তন প্রায় সাড়ে তিন বিঘা। শিক্ষার্থী সংখ্যা ৭৫০ জন, শিক্ষক ৩৫ জন। মাধ্যমিক পর্যায়ে শুধু বিজ্ঞান বিভাগ চালু আছে।’

    শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার, প্রতিটি শ্রেণিতে দৈনিন্দিন ও সাপ্তাহিক পরীক্ষার ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষে পাঠ বুঝে নেওয়ার ব্যবস্থা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সৃজনশীল জ্ঞানচর্চার নানা আয়োজন চালু আছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। বিদ্যালয়ে অস্বচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চালু আছে শিক্ষাবৃত্তি।